• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে যশোরে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল খুলনা থেকে চুরি হওয়া নোহা মাইক্রোবাস যশোরের বাঘারপাড়া থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ যশোরে ব্যবসায়ীকে মারধর করে স্বর্ণের আংটি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ১৬ জন আটক যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ও দেয়াঝটিকা মিছিল করার অভিযোগ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মী আটক বে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে জরিমানা যশোরে হাবিবুরের বাড়িতে ডাকাতি, ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট শার্শায় কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় বিএজের নিন্দা ও প্রতিবাদ কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা, ধানক্ষেতের পাশের গর্তে মিলল মরদেহ

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ও দেয়াঝটিকা মিছিল করার অভিযোগ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মী আটক

Reporter Name / ৪ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

শহিদ জয়, যশোর :
যশোর শহরের গরিব শাহ মাজারের সামনে বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়া ও শহরের মাইক পট্টি এলাকায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে আগুন দেওয়ার ফলে ওখানে কালো দাগের চিহ্ন ফুটে ওঠে। এ ঘটনার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা। অন্যদিকে, রোববার ভোরে মাইকপট্টি এলাকায় যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করে। পরে কোতোয়ালি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে আরেকটি দল আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ফুটেজে গভীর রাতে তিন যুবককে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যেতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন স্তম্ভের নিচে গিয়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন এবং অপরজন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে মাটি থেকে প্রায় ছয়-সাত ফুট ওপরে কালো দাগ রয়েছে। আগুন দেওয়ার পর কেউ দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্মৃতিস্তম্ভটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন এবং ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজনের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে আগুন দেওয়ার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে, গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শহরের মাইকপট্টি এলাকায় জেলা যুবলীগের উদ্যোগে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা যুবলীগের সংগঠক শেখ শহীদ। ওই মিছিলে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে সোমবার সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ শহীদসহ ছয়জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। আটক শহীদের বাড়ি শহরের নীলগঞ্জ তাতিপাড়া এলাকায়।
আটক অন্য হলেন শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার শানু, সুজলপুর এলাকার মকবুল হোসেন এবং ঝুমঝুমপুর স্কুল মাঠ এলাকার কামরুজ্জামান ওরফে সুমন। শহরের সিটি কলেজপাড়া এলাকার মিলন হোসেন
এ ছাড়া শহরের লালদীঘির পাড় এলাকায় যুবলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে শহর যুবলীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম রহমতকে রোববার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি শহরের ঘোষপাড়া বিবি রোডের পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার মাওলানা আব্দুল কাদেরের ছেলে। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অলক কুমার দে জানান, রহমত যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় টাক মিলনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার নয়টি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৭ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।
থানাভিত্তিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা হলো—কোতোয়ালি থানায় ১৭ জন, চৌগাছা থানায় ২ জন, মণিরামপুর থানায় ৩ জন, শার্শা থানায় ২ জন, অভয়নগর থানায় ৪ জন, কেশবপুর থানায় ৩ জন, বাঘারপাড়া থানায় ৪ জন, বেনাপোল পোর্ট থানায় ৪ জন এবং ঝিকরগাছা থানায় ২ জন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, রোববার ভোরে যশোর শহরে একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া গভীর রাতে কে বা কারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd