• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
যশোর সীমান্তে ২২ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য আটক উপশহর বি-সি ব্লক বাজার কমিটির নির্বাচন ফুয়াদ আহম্মেদ সভাপতি ও নূর ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত যশোরে পরিত্যক্ত জমি থেকে ২টি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার যশোরে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার যশোরে ফেনসিডিল মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যশোর মোল্লাপাড়া কবরস্থানের পাশ থেকে ককটেল সাদৃশ্য দুটি বস্তু উদ্ধার লং মার্চ সফল করতে ঝিকরগাছায় জামায়াতের স্বাগত র‍্যালি যশোর চুরামনকাটিতে চায়ের কেটলি দিয়ে আঘাত, হাসপাতালে যুবক যশোরে ডিবির পৃথক অভিযানে ৫ জন আটক, ইয়াবা ও কাশির সিরাপ উদ্ধার ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ

নড়াইলে আমন সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দায়সারা যাচাই কমিটি গঠন, পার পেতে চায় কর্তৃপক্ষ—অভিযোগ

Reporter Name / ১৬৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আহবান নিউজ২৪ :

চলতি আমন সংগ্রহ ২০২৫-২৬ মৌসুমে নড়াইল জেলার পাঁচটি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অস্বাভাবিক হারে ধান ক্রয় দেখানোয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, জেলায় প্রাথমিক ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৩৮৭ মেট্রিক টন। অথচ ক্রয় দেখানো হয়েছে ৩৪৪৭ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯১ শতাংশ বেশি। এত স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ধান ক্রয়ের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব জেলায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে সেসব জেলার কার্যক্রম যাচাই করতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে নড়াইল জেলা রয়েছে। নড়াইল জেলার যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খুলনার মোহাম্মদ তানভীর হোসেনকে। যাচাইকারী কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলএসডি/সিএসডি পরিদর্শন করে ধান ও চালের মান, পরিমাণ এবং সংগ্রহ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দায়সারা যাচাই কমিটি গঠন করে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে সরকার প্রতি মণ ধান ১৩৬০ টাকা দরে ক্রয় করছে। বাজারে ধানের দাম ১০৫০ থেকে ১১৫০ টাকার মধ্যে থাকায় কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হলেও সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকরা ধান দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দালালচক্র লাভের টাকা ভাগাভাগি করেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সূত্র জানায়, অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি নড়াইল সদর ও লোহাগড়া খাদ্যগুদামে। নড়াইল সদর গুদামে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭৯ টন, সেখানে ক্রয় দেখানো হয়েছে ১৫২১ টন। লোহাগড়ায় ৪৯ টনের বিপরীতে ৭৭৫ টন ক্রয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া নলদী ও কালিয়া বড়দিয়া গুদামেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ধান ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গুদামভেদে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধান বাস্তবে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ধান কাগজে-কলমে ক্রয় দেখিয়ে চাল হিসেবে রূপান্তরের হিসাব দেখানো হয়েছে। মিলারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল পাওনা দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ধান গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নড়াইল সদর গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধান ও চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, ধান ক্রয়ের মূল্য পার্থক্য, মিলিং কমিশন ও পরিবহন বাবদ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ধানের মূল্য পার্থক্য থেকেই ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কাগজপত্র ঠিক রেখে ধান সংগ্রহ দেখানো হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হলেও লটারি না করে পছন্দের ব্যক্তিদের নামে ধান ক্রয় দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লায়লা আফরোজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd