• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
যশোর সিপিবি কার্যালয়ে হামলার চেষ্টাসহ মব সন্ত্রাসের নিন্দা লাল মশালের যশোরে মাদকাসক্ত আসামির ডোপ টেস্টের খরচ দেবে কে? যশোর সীমান্তে ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে বদলি,  যশোর বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে গভীর রাতে বোমা বিস্ফোরণ যশোরের অভয়নগরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যশোরে ডিবির পৃথক অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪ মনিরামপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১০ দিনের কারাদণ্ড যশোর-বেনাপোল ও দর্শনা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুর দাবি ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে যশোরে ছাত্রশক্তির লিফলেট বিতরণ

ঝালকাঠিতে বাড়ছে আমড়ার চাষ

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আহ্বান ডেস্ক:

ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে আমড়ার হাট বাজার। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় দিন দিন বাড়ছে আমড়ার চাষ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে এই বছর আমড়ার চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।

দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাটে চলে আমড়ার বেচাকেনা। এরমধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্ঠিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। এই বছর আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে আমড়া কিনছেন ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে।

আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এজন্য ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি করা হয়।

আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, ৬বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছি। মৌসূমী ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া নামবে। সর্বসাকুল্যে ৬বিঘা জমি থেকে ৬লাখ টাকা অর্জন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিক খরচ ৭শ’ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকার। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এরমধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ’ টাকা লাভ হয়।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে ব্যবসার। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।’

 

 

 

 

 

 

সূত্র:বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd