আহবান প্রতিবেদক :
জাকসুতে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। একই সঙ্গে ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ৯ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৫। ২১টি হল সংসদে মোট পদ ৩১৫টি। এতে ৪৭৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী নেই। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ৬৭টি পদে। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হবে।
জাকসুতে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে চারটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও তিনটি আংশিক প্যানেল রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম।
আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এ ছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন ও ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ কেউ প্রতিযোগিতায় থাকতে পারেন।
জাকসু নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ১০ আগস্ট। নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেশির ভাগ প্রার্থী গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির (হলের অতিথিকক্ষে আদবকায়দা শেখানোর নামে নির্যাতন) বিলোপ, আবাসনসংকট সমাধান, নিরাপত্তা, পরিবহন সমস্যার সমাধান, খাবারের মান উন্নত করা, শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, দলীয় প্রভাবের ছাত্ররাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সংশপ্তক পর্ষদের জিএস প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিগত দিনে ছাত্রলীগের গণরুম, গেস্টরুমের ব্যাপারে আমরা প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা ছিলাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। জাকসুর মাধ্যমে সেসব অপসংস্কৃতি পুরোপুরি বিলোপ করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে।’