• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিক সুনীল ঘোষের মাতৃবিয়োগে জেইউজের শোক সাংবাদিক সুনীল ঘোষের মায়ের মৃত্যুতে প্রেসক্লাব যশোরের শোক যশোর বাঘারপাড়ায় ২৪টি ককটেল সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করল এটিইউ বোম্ব ডিসপোজাল টিম যশোরে বোমা হামলা মামলায় যুবলীগ কর্মী আটক যশোর বেনাপোলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর গাড়ি বহরে হামলা প্রেসক্লাব যশোরের সদস্যপদ প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর বেনাপোল সীমান্তে পুশইন চেষ্টা ব্যক্তিদের শূণ্যরেখা থেকে সরিয়েছে বিএসএফ বিএসএফ-কে আন্তর্জাতিক আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী তাদের বিচার হতে হবে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী  যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে সিরিঞ্জ-প্লাস্টার চুরি, দুই নারী কর্মী আটক সাইবার সুরক্ষা আইনের দুই মামলায় জামিনে মুক্ত যুবদল নেতা জনি

ভাঙ্গায় নিহত একই পরিবারের ৪জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম   প্রবাসী ছেলের ফেরা হলো না ঘরে, যাওয়া হলো না পাত্রী দেখতে 

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

 

শহিদ জয় যশোর  :
মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলের ফেরার আনন্দে বুক বেঁধেছিলেন মা। দীর্ঘ ১১ বছর পর ছেলে ফিরছে ঘরে, আগামীকালই যাওয়ার কথা ছিল পাত্রী দেখতে। কিন্তু সেই আনন্দ রূপ নিলো বিষাদে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চালক এবং মা ও প্রবাসী ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে মালিগ্রাম এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওই চারজনের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তাদের গ্রাম জুড়ে।
ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রামে ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া এই প্রাইভেটকারটি এখন এক বুক স্বপ্নের সমাধি। আজ মঙ্গলবার ভোরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা দেয়ায় মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় প্রাইভেটকারটি। এতেই
ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান চালক ও যশোর ঝিকরগাছার বালিয়াডাঙ্গা গ্ৰামের এক পরিবারের মাসহ ৪জন। আহত হয় আরো দুই শিশু। মালয়েশিয়া ফেরত ছেলেক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
নিহতরা হলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম, ভাই রাকিব, বোন আয়শা বেগম এবং গাড়িচালক জাহিদ। এ ঘটনায় আশরাফুল ও তাছফিয়া নামের দুটি শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছে মৃত্যুর সাথে।
নিহত আরিফের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে বিমান বন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিল মা নূরজাহান বেগম ও তার ছেলে মেয়ে, নাতিনাতনি । ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছে। বাবা ছাড়া পরিবারে কেউ নেই।
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল ইসলাম। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।
ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ ১১ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। মালয়েশিয়ায় ঘাম ঝরানো উপার্জনে ৫ শতক জমি কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর, গতকাল সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। বাড়ি ফিরেই আগামীকাল বুধবার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ারও কথা ছিল। একবুক আশা ও আনন্দ নিয়ে প্রিয় সন্তান আর ভাইকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নুরজাহানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে বাড়ি ফেরা আর হলো না। এখন সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল ইসলাম। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।
মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, এই পরিবারটি খুবই দরিদ্র ছিল। ভূমিহীন ছিল। সংসারের সুখ ফেরাতে বিদেশ গিয়েছিল। বাড়ির জন্য জমি কিনেছিল, বাড়ি করেছে। সংসারে সুখ ফিরেছে। কিন্তু সেই সুখ আর হলো না। বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ ১১ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। মালয়েশিয়ায় ঘাম ঝরানো উপার্জনে ৫ শতক জমি কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর, গতকাল সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। বাড়ি ফিরেই আগামীকাল বুধবার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ারও কথা ছিল। একবুক আশা ও আনন্দ নিয়ে প্রিয় সন্তান আর ভাইকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নুরজাহানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে বাড়ি ফেরা আর হলো না। এখন সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
আব্দুল কাদের নামে এক মামা বলেন, আরিফের দেশে ফিরে বিয়ের কথা ছিলো। মেয়ে দেখা রয়েছে। আগামীকাল যাওয়ার কথাও ছিলো। যে পরিবারের আনন্দ উৎসব হবে সেখানে আমাদের চোখের জলে ভাসছে।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন হতভাগা পিতা শহিদুল ইসলাম। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তার পুরো পৃথিবীটাই এখন শূন্য।
এদিকে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোসলেম উদ্দিন জানান, এই পরিবারটি ভূমিহীন ছিলো। ৫শতক জমি কিনে বাড়ি করেছে। তাদের সুখের দিনে বিষাদে পরিণত হয়েছে। আমরা শোকাহত।
তিনি আরো বলেন, তাদের বাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই। ফলে আমার পারিবারিক কবরস্থানেই তাদের দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই নুর আলম জানান, মালিগ্ৰাম বাসস্ট্যান্ডে গ্যাস ভর্তি দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার ঢুকে যায়। নিহতদের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd