আহ্বান নিউজ:
যশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের উদ্যোগে কবিতা, গান ও নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়েছে।
যশোর টাউন হল ময়দানে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠক সানোয়ার আলম খান দুলু।
বক্তব্য রাখেন সুরবিতান সংগীত একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব বিশ্বাস, সুরধুনীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদুল হাসান বুলু ও তীর্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাশ রতন।
কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী জাহিদুল যাদু, শাহেদ নেওয়াজ ও বিবর্তনের শিল্পীরা। গণসঙ্গীত ও সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুরবিতান সঙ্গীত একাডেমি, কিংশুক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্র, উদীচী যশোর, পুনশ্চ যশোরসহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুকান্তের কবিতায় পুরনো, জরাজীর্ণ ও বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার এক তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্নই ছিল তাঁর মুল আকাঙ্খা। এছাড়া তাঁর প্রতিটি কবিতায় শোষক এবং শোষিতের মধ্যকার দ্বন্দ্ব পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে ‘বিদ্রোহী কবি’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তাঁর কবিতায় অন্যায়, অত্যাচার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর লেখনী ছিল ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এবং পুঁজিপতিদের শোষণের বিরুদ্ধে শোষিত ও বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রসঙ্গত. ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নিবারণ চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। মাতার নাম সুনীতি দেবী। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতার যাদবপুরের রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে (বর্তমান কে এস রায় টিবি হাসপাতাল) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে চরম অভাব-অনটন, রাজনৈতিক কর্মব্যস্ততা এবং কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি মারাত্মক যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হন। পরে যক্ষ্মায় তাঁর মৃত্যু হয়।