আহবান নিউজ :
যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা মহিলা বিভাগের উদ্যোগে জুলাই দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালিকা মাসুমা পারভীন।
সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সাজেদা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিক, ইসলামী ছাত্রীসংস্থার জেলা সভানেত্রী সুফিয়া খাতুন ও জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী সালমা আক্তার আশা। এসময় অন্যান্য নারী নেত্রীরা বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সাহসী এবং বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবে নারীরা উদম্য সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজপথে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহন আন্দোলনের গতি বহুগুন বৃদ্ধি করেছিল। এই আন্দোলনে অনেক নারী শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন। তাদের আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
তিনি বলেন, মায়েরা তাদের সন্তানদের জুলাইয়ের আন্দোলনে উৎসাহ দিয়েছেন। ওইসব মায়েরা বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আশা নিয়ে সন্তানদের রাজপথে আন্দোলনে পাশে ছিলেন। ছাত্রদের পাশাপাশি অসংখ্য ছাত্রীরাও আন্দোলনে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। যশোরে বৃষ্টিতে ভিজে মিছিলে অংশ নিতে পিছপা হননি ছাত্রীরা। পুলিশের লাঠিচার্জেও তারা আন্দোলন থেকে চুল পরিমান সরে যায়নি। এই ঘটনা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। বাংলাদেশকে কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নারী সমাজকে আগামীতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহবান জানান তিনি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী নেত্রী ও কর্মীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।
অপরদিকে সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহিদ দিসব ও গণঅভ্যূত্থান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব জাতির সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ বিপ্লবের অর্জন সংরক্ষণ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধ, সুশাসন ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সভাপতিত্ব করেন বসুন্দিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিক। আরও বক্তৃতা করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আশরাফ আলী ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হক।
আলোচনা শেষে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।