
আহবান নিউজ :
যশোরের নীলগঞ্জে প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই প্রধান শিক্ষক রমাকান্ত বিশ্বাস স্বাক্ষরিত স্মারক নং-২৩/২৬-এর এক চিঠিতে মাসুদুর রহমানকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় এবং ৩০ জুন যশোর থেকে প্রকাশিত অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘ড্রিম টাচ একাডেমি’ নামে একটি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযোগগুলো সরকার প্রণীত কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২-এর ৩, ৪, ৫ ও ৯ নম্বর ধারার পরিপন্থী। এ অবস্থায় নীতিমালার ১৪(ক) ও ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি যশোরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে নীলগঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন একটি তিনতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ‘ড্রিম টাচ একাডেমি’ পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে চাপ প্রয়োগ, পরীক্ষার আগে সাজেশনের নামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, কোচিংয়ে ভর্তি না হলে ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং এক ম্যাজিস্ট্রেটের ভাগ্নিকে কোচিংয়ে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠে আসে। এছাড়া ওই কোচিং সেন্টারে প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম,তাপস কুমার ঘোষ ও আশরাফ হোসেন পাঠদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমাকান্ত বিশ্বাস বলেন, “মাসুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার কোচিং পরিচালনা না করার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টিও লোকমুখে শুনেছি।”
তবে অভিযোগ প্রকাশের প্রায় আড়াই মাস পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।