• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

যশোরে জমি বিরোধের জেরে হামলা: নারীর মাথার খুলি ভেঙে অপারেশন, আদালতের নির্দেশে এফআইআর

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

আহবান নিউজ :

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীসহ দুইজনকে গুরুতর জখম করার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ ও এফআইআর রেকর্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের টিপু (২৭), অপু (২৫), পল্টু (৪৫) ও মাহাবুব (৫০)-কে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ মে সকাল ১১টার দিকে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ধারালো হাসুয়া নিয়ে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় বাদীর বোন নাছিমা বেগম ওরফে নাছি বাধা দিতে গেলে আসামি অপু লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথার খুলি ভেঙে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নাছিমার খুলির ভাঙা অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বাদীর পিতা হোসেন আলী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করে। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় সেলাই দিতে হয়। পরে হামলাকারীরা আহতদের মারধরের পাশাপাশি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাছিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা খুলির ভাঙা অংশ অপসারণ করে সংরক্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে বলে জানান।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করতে পারেননি। পরে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল মামলার নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আবেদনটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে মামলা রুজু করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন।

আদালত দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd