
আহবান নিউজ :
যশোরের শার্শায় মামুন হাসান জুয়েল নামে পুলিশের একজন নায়েককে মারপিটের ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাড.মোস্তফা কামাল মিন্টুকে আটক অভিযান জনরোষে ব্যর্থ হয়েছে। সেই সাথে পুলিশ সদস্য জুয়েলের পিতা শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমানের পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাড়িঘর তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে! শাশা উপজেলার এক বিএনপির নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের নায়েক মামুন হাসান জুয়েল অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে শার্শা উপজেলা বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে মশিয়ার রহমানের ছেলে ট্যুরিস্ট হেডকোয়াটার্সের নায়েক মামুন হাসান জুয়েলকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ৩০ মে জুয়েল একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, শ্যামলাগাছি গ্রামের মিন্টু দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার বাবার বালুর ব্যবসা বন্ধ করে রেখেছেন। রাজগঞ্জ মাঠে জুয়েলদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার বালু রয়েছে, যা মিন্টু তার লোক মুকুলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চঁাদা দাবি করে আটকে রেখেছে। চঁাদা দিতে অস্বীকার করায় এই শত্রুতার সূত্রপাত। জুয়েল জানান,ওই দিন তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য শাশা বিএনপির সাধারন সম্পাদককে জানান। এরপর বাড়িতে আসার সময় শার্শা যাওয়ার পথে মিন্টু, পিন্টু, লাল্টু ও টিটুসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন জিআই পাইপ ও বঁাশের লাঠি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শার্শা থানায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এদিকে, পুলিশ মারপিটের ঘটনায় শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মোস্তফা কামাল মিন্টুকে যশোর ডিবি পুলিশ ও শার্শা থানা পুলিশ আটকের চেষ্টা করে বলে মিন্টু অভিযোগ করেন। তবে স্থানীয় জনতা ও নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। উপজেলার শ্যামলাগাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করে ডিবি পুলিশ ও শার্শা থানা পুলিশের সদস্যরা বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, কোনো কারণ বা মামলা না করে উপজেলা বিএনপি নেতা মিন্টুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে জনতার বাধার মুখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে, এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ এই ধরার চেষ্টা এবং না ধরে চলে আসার নেপথ্য অনুঘটক শাশার্ থানার ওসি। তার কারণেই নাকি মিন্টু আটক অভিযান সফল হয়নি। এদিকে পুলিশি অভিযানের কারণে বেপরোয়া মারপিটে আহত হওয়ার পর ফের ক্ষতির শিকার হয়েছেন জুয়েলদের পরিবার। স্থানীয়রা জানান, মিন্টুকে আটকে ব্যর্থ পুলিশি অভিযানের রেশ ধরে বৃহস্পতিবার পুনরায় বিএনপি নেতা মিন্টুর লোকজন জুয়েলদের বাড়িতে এবং তার বাবা মশিয়ার রহমানের যৌথ শ্যামলী তেল পাম্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ভেঙে ফেলে সিসি টিভি ক্যামেরা। নিয়ে যায় তার মনিটরসহ অন্যান্য মারামার। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল ৫ আগষ্টের পর ধনাঢ্য এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চঁাদাবাজি ও অরাজকতা সৃষ্টি করছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এদিকে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বলেন, আমাকে অযথা ডিবি পুলিশসহ শার্শা থানা পুলিশ এখান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর আমার লোকজন আমাকে নিতে দেয়নি। আমাকে তুলে নেওয়ার কথা শুনে এখানে আমার লোকজন পুলিশের হাত থেকে আমাকে রক্সা করে। আমাকে শার্শা থানা ওসি ও ডিবি ওসি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে জানতে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে এই আটক অভিযান নাটকের বিষয়ে ওসির বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে যশোর ডিবি পুলিশের অফিসার ইন চার্জ সুজন কুমার মন্ডল বলেন, এটা আমাদের কোন বিষয় নয় শার্শা থানা পুলিশের বিষয়। তাদের সহযোগিতার জন্য আমাদের কিছু লোক শাশার্য় গেছে। এ বিষয়ে যশোর পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব।