• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

যশোর সিটি ক্যাবলকে ঘিরে চেক বিরোধ:পাল্টা মামলার ইঙ্গিত, নথিতে মিলছে না তথ্য

Reporter Name / ১১০ Time View
Update : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

আহবান নিউজ :
যশোর সিটি ক্যাবল (প্রা.) লিমিটেডকে ঘিরে ব্যাংক চেক সংক্রান্ত বিরোধ এখন আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও শেয়ারহোল্ডার আফজালুল করিম রানু একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক এমডি ও প্রতিষ্ঠাতা শেয়ারহোল্ডার ব্যবসায়ী মীর মোশাররফ হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে চেক আত্মসাতের অভিযোগে নালিশী মামলা করেছেন। এঘটনায় উভয়পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, চলতি মাসের ৭ এপ্রিল যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আফজালুল করিম রানু এ নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, এএমসি ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা হোসেন আলম প্রতিষ্ঠানের নামে ২কোটির বেশি টাকার তিনটি চেক প্রদান করেন। তবে চেকগুলো যথাযথভাবে জমা না দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ২ এপ্রিল অফিসে এসে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিবাদী মীর মোশাররফ হোসেন বাবু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলাটি “মিথ্যার ফুলঝুরি”। তাঁর দাবি, তিনটি নয়, একটি চেক ছিল এবং সেটির পরিমাণও কোটি টাকার নিচে। তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালতে বিচারাধীন এবং এর নিষ্পত্তি হলে প্রতিষ্ঠানই আর্থিকভাবে উপকৃত হবে। হুমকি-ধামকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার সাক্ষীরা বর্তমান পরিচালনা কমিটির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
চেকদাতা মোস্তফা হোসেন আলম জানান,যশোর সিটি ক্যাবল ২২ হাজার ৬৮৯টি সেটআপ বক্সের অর্ডার দিয়েছিল,যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অগ্রিম হিসেবে তিনি প্রায় ৯৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তবে পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই অগ্রিমের বিপরীতে একটি চেক প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা না থাকায় ডিসঅনার হয়। এ ঘটনায় পূর্বে একটি চেক ডিসঅনার মামলাও হয়েছে বলে তিনি জানান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে পরিবর্তন আসে। নতুন কমিটির সভায় অডিটসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হলেও চেক সংক্রান্ত মামলার দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা বর্তমান চেয়ারম্যানের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাদী আফজালুল করিম রানু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে এবং তিনি চেক হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর মৌখিক বক্তব্য ও মামলার আরজিতে কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ৯০-এর দশকে মীর মোশাররফ হোসেন বাবুর হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে একাধিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে কোম্পানিটি সম্প্রসারিত হয় এবং বর্তমানে এর শেয়ারহোল্ডার সংখ্যা ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, কোম্পানির মূলধন ও রাজস্ব সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতির অভিযোগও উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন চেয়ারম্যান আফজালুল করিম রানু।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৯৮ লাখ টাকার পাওনা ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ এখন একাধিক চেক, মামলা ও পাল্টা মামলার ইঙ্গিতে জটিল আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd