• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ঝিনাইদহ মহেশপুরে দাখিলা বইয়ের পাতা গায়েব: অফিস সহায়ক ভাস্করের ২৯ বছর কারাদণ্ড

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

 আহবান নিউজ :

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে সরকারি নথিপত্র আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্করকে ২৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার যশোরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ও জেলা জজ এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল হক ভাস্কর মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রেজাউল হক ভাস্কর নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর অফিসে ব্যবহৃত ৭৫/২০১৬-১৭ নম্বর দাখিলা বই থেকে বিভিন্ন সিরিয়ালের মোট আটটি পাতা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে ছিঁড়ে নেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর দাখিলা বই পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।

ঘটনার পর অফিসের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভাস্কর দাখিলা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), মহেশপুরের নির্দেশে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দাখিলার কপি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কক্ষ থেকে দুটি ডি.সি.আর কপি, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সিলমোহর ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নেপা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিজিয়া খাতুন। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি রেজাউল হক ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য যশোরের বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন ধারায় মোট ২৯ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ে ১৬১ ধারায় দুই বছর, ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর, ২০১ ধারায় তিন বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২০৪, ৪৭১, ৪৮৫ ও ৪৮৮ ধারায় দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd