
আহবান নিউজ:
মুন্সী মেহেরুল্লাহ ফাউন্ডেশনের সদস্যদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা গতকাল বিকেলে প্রাচ্যসংঘ যশোরে ওবায়দুল বারী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মসিউল আযম।
সভার শুরুতে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ফাউন্ডেশন এর নবগঠিত কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপদেষ্টা মন্ডলীর পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মিজানুর রহমানকে সভাপতি ও কর্নেল (অবঃ) মেহের মহব্বত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে
নবগঠিত কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ২৫ জন। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ২৫ ব্যক্তিকে উপদেষ্টা করে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।
পরে কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ কর্ম ও জীবনীর উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন সাংবাদিক লেখক গবেষক বেনজীন খান, কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম, কর্নেল (অবঃ) মেহের মহব্বত হোসেন, সাংবাদিক আহসান কবির বাবু, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, সাংবাদিক নূর ইসলাম, শিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কর্মবীর মুন্সী মেহেরুল্লাহ একজন দেশ প্রেমিক যোদ্ধা ছিলেন। তিনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে সাথে ইসলাম ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একদিকে বৃটিশরা ইসলাম ধর্মের মানুষকে নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করে তুলছিলেন অন্যদিকে ভারতীয় ব্রাহ্মবাদী শাষকরা মুসলমানদের কে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে ইসলামকে ধ্বংসের চক্রান্তে মেতে ওঠে। মুন্সী মেহেরুল্লাহ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নানা ভাবে লড়াই করেছেন। মুসলমানেরা যোদ্ধার জাতি। তারা কখনো কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে পারে না।
ধর্মের নামে যেখানেই অধর্মের কাজ হয়েছে সেখানেই ইসলামের ধারক বাহকরা নানা পন্থায় সংগ্রাম করেছেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ তেমনি একজন বীর। তিনি আজীবন একজন সংগ্রামী মানুষ। তিনি কখনো কোন অন্যায়ের সাথে কোনদিন আপোষ করেননি।যে কারনে জীবনে তাতে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। কিন্তু তুনি থেমে যাননি। তিনি আমৃত্যু আত্নসংগ্রামী ছিলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহকে তাই আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠা করতেই তার আত্নজীবনীসহ সমগ্র জীবনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুন্সী মেহেরুল্লাহর আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। সর্বপরি ভারতীয় দাদাগিরীর বিরুদ্ধে গোটাজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভারতীয় আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কে লালন করতে হবে, পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যতদিন আমরা আমাদের হৃদয়ে মুন্সী মেহেরুল্লাহকে এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কে লালন ও ধারন করতে না পারবো ততোদিন জাতি হিসেবে আমাদের মুক্তি মিলবে না।
পরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ স্মরনে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রাচ্যসংঘ যশোরের নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী আলমগীর হোসেন।