
আহ্বান নিউজ:
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং ঢাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার বিচারের দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, যশোর’-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদার জন্য রক্ত দিয়েছে। কোনো বিদেশি শক্তির দাসত্ব মেনে নেওয়ার জন্য এ দেশের মানুষ সংগ্রাম করেনি। সরকারের নতজানু নীতি ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জোটের যশোর জেলা সমন্বয়ক, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোর জেলা সম্পাদক তসলিম উর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি যশোর জেলা সভাপতি মাহবুব রহমান মঞ্জু, বাসদ যশোর জেলা সদস্যসচিব হাচিনুর রহমান এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিপুল বিশ্বাসসহ অন্য নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ যশোর জেলা নেতা আলাউদ্দিন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় ব্যয়বহুল বোয়িং বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, যেসব বিমানের সরবরাহ ২০৩৭ সালে পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর মূল্য পরিশোধের দায় এখনই নিতে হচ্ছে। বক্তারা এসব উদ্যোগকে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশে দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, একদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ছবিতে কালি লেপনের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গ্যাস, তেল ও সারের সংকট এবং কৃষক-শ্রমিকের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষ সংকটে পড়ছেন।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, অসম চুক্তি বাতিল এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক কৌশল বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে দমিয়ে রাখা যাবে না। দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নীরব থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব অসম চুক্তি বাতিল এবং ঢাকায় প্রগতিশীল নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।