• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী কাল বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী  যশোরে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নেবে ৩০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী যশোর চৌগাছার পৌর হাটে চাঁদাবাজি, ইজারাদারের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান বিলম্বে হতাশা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা যশোরের দুই সহ্রাধিক কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলার টিকাদান  যশোরে কিশোর গাং এর ৫  সদস্য আটক, চাকু উদ্ধার সকল প্রকার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে জাগপা’র তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ যশোর শহরের নীলগঞ্জে রমরমা কোচিং বাণিজ্য  যশোরের চৌগাছায় বিনামূল্যে দোস্ত এইডের টিউবওয়েল বিতরণ

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে কিছু জরুরি প্রশ্ন

Reporter Name / ১৯০ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আহবান প্রতিবেদক:

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে, তা একই সঙ্গে যেমন উপভোগ্য হয়ে উঠেছে, তেমনি কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়েও দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ কী, অনেকগুলো প্রজন্মের তা জানারই সুযোগ হয়নি।

অনেক বছর ধরে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা ভোটাধিকার চর্চার সুযোগ পাননি। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। এই পটভূমিতে এবার অনুষ্ঠেয় ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকা খুবই স্বাভাবিক।

তরুণদের আন্দোলনের একটি বৃহৎ অংশ, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অবশ্য আপাতত এই সুযোগ মিলছে না এবং কবে সেটি হবে, তা-ও বলা সম্ভব নয়; কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের কিছুটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি বা ভিপিদের কথা স্মরণ করলেই জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব কতটা ব্যাপক, তা বোঝা যায়।

এমনকি সর্বশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছিল, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক থাকলেও তাতে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর মাত্র বছর পাঁচেকের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বীকৃত নাম। তিনি একটি দলের প্রধান এবং তাঁর দল গণ অধিকার পরিষদকে জোটে টানার জন্য একাধিক বড় দলের আগ্রহের বিষয়টিও অজা

 ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন থেকে তাই কোন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। তবে ফল যা–ই হোক না কেন, এই নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ও অনুসিদ্ধান্ত এখন খুবই প্রাসঙ্গিক। ফেব্রুয়ারিতে পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচনের একটি ক্ষুদ্রকায় মহড়া হিসেবে এই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন, প্রচার কার্যক্রম, প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালন, মূলধারার গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা, ভোট ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো থেকেই এসব প্রশ্ন ও অনুসিদ্ধান্ত।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জড়িত বৈধ রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রায় সব কটিই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছে। বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, আছেন অতীতের চেয়ে বেশি নারী প্রার্থী। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যে অপরাধের কারণে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ, সেই ছাত্রলীগের ছদ্মপরিচয় যাঁরা ব্যবহার করেছেন, তাঁরা নতুন বা আসল পরিচয়ে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে পারছেন, তাঁদের অতীতের দায় গ্রহণের কী হলো?

ছাত্রলীগের সব ধরনের বাড়াবাড়ি ও অন্যায়-অবিচারে তাঁরাও সক্রিয় অথবা নীরব অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাঁরা কি কোনো ধরনের ক্ষমাপ্রার্থনা ছাড়াই পুনর্বাসিত হতে পারেন? জাতীয় নির্বাচনেও কি এই প্রশ্ন আসবে না? কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফের কথাই ধরা যাক। তিনি এখন ওই ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি এবং তাঁর দাবি—আগেও তিনি জামায়াতের সদস্য ছিলেন; কিন্তু কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগে ছিলেন।

সাধারণভাবে প্রার্থীরা যেভাবে আচরণবিধি অনুসরণের চেষ্টা করেছেন, তা বেশ উৎসাহজনক। অন্তত যখন-তখন মিছিল, মাইকে বিকট শব্দে ভোট চাওয়ার শব্দদূষণ, দেয়াললিখন, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের উৎপাত থেকে মুক্তি দেওয়ার একটি ভালো নজির ডাকসুর নির্বাচনে তৈরি হচ্ছে। রাজনীতিকেরা জাতীয় নির্বাচনে এসব উত্তম চর্চায় উৎসাহিত হবেন কি?

অবশ্য এ কথাও অনস্বীকার্য যে মূলধারার গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে অবাধে প্রচারের সুযোগ পাওয়ায় পুরোনো রীতির প্রচারে অযথা খরচ ও শ্রম দিতে হচ্ছে না। প্রথাগত গণমাধ্যমের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে বেশ প্রশংসনীয় এবং তাদের উদ্যোগগুলো সহজেই নজর কাড়ে।

টেলিভিশন চ্যানেলের খোলা মঞ্চে বিতর্কের আয়োজন, রাতের টক শোগুলোয় প্রার্থীদের উপস্থিতি এবং সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকারগুলো সব শিক্ষার্থীকে জেনেবুঝে ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে যে সহায়তা করবে, তা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এসব অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকারের সম্পাদকীয়র দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁরাও মোটামুটি নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছেন এবং দল-নির্দলনির্বিশেষে সব প্রার্থীকে কথা বলার পর্যাপ্ত সুযোগ দিচ্ছেন। ব্যতিক্রম ঘটলেও তার মাত্রা উপেক্ষণীয়। এই মডেল তাঁরা যদি জাতীয় নির্বাচনেও বজায় রাখতে পারেন, তাহলে তা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাকে সমৃদ্ধ করবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন। এক দশক আগে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি ও তার নেতা নরেন্দ্র মোদির উত্থানের কথা সোশ্যাল মিডিয়ার রূপান্তর–সম্পর্কিত পাঠ্যসূচির একটি বিষয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই টুইটারে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল বিশ্বে সর্বাধিক। পরে সাংবাদিক স্বাতী চতুর্বেদীর অনুসন্ধানী গ্রন্থ আই অ্যাম আ ট্রল: ইনসাইড দ্য সিক্রেট ওয়ার্ল্ড অব দ্য বিজেপিস ডিজিটাল আর্মি বইয়ে প্রকাশ পায় কীভাবে দলটি একটি বিশাল বটবাহিনী গড়ে তুলেছে।

লাখ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট দলটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে মোদির ভাবমূর্তি গড়ে তোলায় সফল হয়। আমাদের দেশেও যে মডেলটি অনুসৃত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একটি বটবাহিনী আলবটর এবং অন্যটি লালবটর নামে অভিহিত হচ্ছে। তবে আলবটরের সঙ্গে তার প্রতিপক্ষ সংখ্যার বিচারে মোটেও তুলনীয় নয়।

কয়েকটি বাম সংগঠনের এক প্রার্থীকে আদালতে মামলা করার জন্য গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও নারীদের জন্য নির্বাচন কতটা বাড়তি বিপদের কারণ হতে পারে, তা প্রকাশ করে দিয়েছে। আমরা জানি, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক মা কীভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। সুতরাং আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নারীদের এই বাড়তি ঝুঁকি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ যে ভোলা যাবে না, ডাকসুর নির্বাচন তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ ডাকসুতে যতটা দেখা গেল, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—জাতীয় নির্বাচনে তা দেখা দেবে শত গুণ বড় আকারে। প্রশ্ন হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে—এমন ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো বা বটবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল? অন্তত সরকার ও ডিজিটাল মাধ্যমের তদারকি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসিকে কি এই ঝুঁকির কথা জানিয়ে সহায়তা চেয়েছিল?

এবারের ডাকসু নির্বাচনে ব্যতিক্রমী আরেকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটি হচ্ছে লড়াইয়ের সঙ্গী কমরেডের প্রতি সম্মান দেখানোর অনন্য নজির গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বির বিরুদ্ধে কোনো সংগঠনের প্রার্থী না দেওয়া। গত বছরের ১৫ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন সানজিদা।

ভোটের ফল যা–ই হোক, তাঁকে স্বাগত জানিয়েও বলব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাও একই ধরনের সম্মান পেতে পারতেন। নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গণহত্যার বিরুদ্ধে তাঁর যে নৈতিক অবস্থান, তার জন্য তাঁর এই সম্মান পাওয়া উচিত। ফিলিস্তিনি গণহত্যায় ইসরায়েলের সহযোগী হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাহসী নারীর পুরস্কার প্রত্যাখ্যান কোনো সামান্য বিষয় নয়। তাঁর এই ত্যাগ সবার জন্য শিক্ষণীয় হয়ে রইল।

সূত্র :p.a


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd