আহ্বান নিউজ:
যশোরে মাছের ফিড চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘যশোরের দর্পণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার দাবি করে প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাছচাষি মো. হাদিউজ্জামান (৪৫)। তাঁর দাবি, মাছের খাবার চুরির ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা না থাকলেও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর বাবাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী হাদিউজ্জামান যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যা একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
হাদিউজ্জামানের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানাধীন মালিডাঙ্গা গ্রামে একটি ঘের থেকে মাছের ফিড চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘেরের এক কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তাঁর ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন পর গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ‘যশোরের দর্পণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ‘এবার মাছের খাবারের দিকে নজর যুবদল নেতা’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে তাঁর ও তাঁর বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাদিউজ্জামান বলেন, মাছের খাবার চুরির ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ তাঁদের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের পোস্ট দেওয়ায় তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। পোস্টটির পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
এদিকে, হাদিউজ্জামানের বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার একটি স্কুলের মাঠ থেকে গাছ কাটার কাজে বাধা দেওয়ার পর থেকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছে। তাঁর ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরে কয়েকজন মিলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
একই অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আফসার মোল্যা বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বাবা-ছেলেকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
হাদিউজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ধরনের প্রচারের কারণে ভবিষ্যতে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদি মারুফ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। একটি অজ্ঞাতনামা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি নিয়ে তিনি কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।