• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

যশোরের ‘স্বপ্নপুরী’তে রহস্যময় হুলুস্থুল, ফলস সিলিং থেকে ভাড়াটিয়া উদ্ধার

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

 

শহিদ জয়, যশোর :
যশোর শহরের পুলিশ লাইন কদমতলা এলাকার শান্ত এক সকাল হঠাৎই রূপ নেয় অদ্ভুত এক নাটকীয়তায়। ‘স্বপ্নপুরী’ নামের বাড়িটিতে যেন জমে ওঠে এক রহস্যঘেরা দৃশ্য—দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে না মেলা কোনো সাড়া, বাড়ির মালিকের উৎকণ্ঠা, আর শেষমেশ পুলিশের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে যেন বাস্তবের ভেতর এক রোমাঞ্চকর গল্প।
বাড়িটির মালিক আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আফজাল হোসেন খান জানান, প্রায় সাত বছর ধরে ময়না বেগম নামে এক নারী ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়া বকেয়া থাকায় উদ্বেগ বাড়ছিল। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে বাড়ির কাজে শ্রমিক গিয়ে বারবার ডাকলেও কোনো সাড়া না পেলে বিষয়টি রহস্যময় হয়ে ওঠে।
অবশেষে পুলিশ আসে, সাথে জড়ো হন কৌতূহলী প্রতিবেশী ও সংবাদকর্মীরা। দরজা বন্ধ, ঘর নিস্তব্ধ—মনে হচ্ছিল ভেতরে লুকিয়ে আছে অজানা কোনো গল্প। প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রভা নামে এক নারী দরজা খুলে জানালেন, ময়না বেগম নাকি বাসায় নেই, হাসপাতালে আছেন।
কিন্তু রহস্য তখনও কাটেনি। বাড়ির মালিক নিজের চাবি দিয়ে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে শুরু হয় তল্লাশি। নিঃশব্দ ঘরের প্রতিটি কোণ যেন কিছু বলতে চাইছিল। আর ঠিক তখনই—বাথরুমের ওপরে ফলস সিলিংয়ের ভেতর থেকে ধরা পড়ে লুকিয়ে থাকা এক ছায়ামূর্তি।
তিনি আর কেউ নন, সেই ময়না বেগম।
জিজ্ঞাসাবাদে কাঁপা কণ্ঠে তিনি জানান, আগের রাতে এক ব্যক্তির হৈচৈ ও দরজায় ধাক্কাধাক্কিতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি লুকিয়ে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, “ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম… মনে হয়েছিল আবার কেউ এসেছে ঝামেলা করতে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগে গল্পটি পায় ভিন্ন মাত্রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় অচেনা মানুষের যাতায়াত ছিল, যা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও ময়না বেগম এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, “আমি অনেকদিন বাসাতেই ছিলাম না, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
ঘটনার পর বাড়ির মালিক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেন। এলাকাবাসীর মাঝেও সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য ও নানা প্রতিক্রিয়া।
তবে পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় ময়না বেগমকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শান্ত ‘স্বপ্নপুরী’ তাই একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল রহস্য, আতঙ্ক আর নাটকীয়তার এক অদ্ভুত মঞ্চ—যেখানে বাস্তব আর গল্প যেন মিশে গিয়েছিল এক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd