• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
যশোরের ঝিকরগাছায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধ কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা আটক এক সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র চলছে:  যশোরে যুবদলের সমাবেশে নয়ন যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন যশোরে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সুস্থতা কামনা যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৫১ সদস্য যবিপ্রবিতে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত যবিপ্রবির বিএমবি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত ৯ বছর আগে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ গ্রেপ্তার যশোরে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন আটক

যশোর তালবাড়িয়ায় ইমনের ভেজাল কারখানা পরিবেশ ও কৃষিতে চরম ক্ষতি,এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

Reporter Name / ১৮৮ Time View
Update : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আহবান প্রতিবেদক :

যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল মোবিল ও ভেজাল দস্তা সার কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে সামাউল ইসলাম ইমন নামে এক ব্যক্তি। এ দুটি অবৈধ কারবার স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অথচ বহুবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও ইমন রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোশারফ হোসেনের ছেলে সামাউল ইসলাম ইমন তার বাড়ির অদূরে পাকা সড়কের পাশে ভেজাল মোবিল উৎপাদনের কারখানা গড়ে তুলেছে। কারখানার পাশেই বসতবাড়ি থাকায় মোবিল পোড়ানোর তীব্র দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়াসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগতে হচ্ছে আশপাশের বাসিন্দাদের।

কারখানার বর্জ্য ইমন নিজস্ব পুকুরে ফেলায় ওই পুকুরের পানি পুরোপুরি দূষিত হয়ে পড়েছে। পোড়া মোবিলের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে এবং পুকুর ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এসব বিপদজনক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পান না।

ইমনের আরেকটি অবৈধ ব্যবসা হলো ভেজাল দস্তা সার উৎপাদন। তিনি নিয়মিত কারখানার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করেন। জানা গেছে, তালবাড়িয়া, ঘুরুলিয়া ও জোত হাশিমপুর এলাকায় তিনি একাধিক গোপন কারখানা স্থাপন করেছেন।

২০১৯ সালে র‌্যাব ও কৃষি কর্মকর্তারা তার কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সিলগালা করেছিলেন। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অন্যত্র নতুন কারখানা খুলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করেন। তার উৎপাদিত নিম্নমানের সার বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সার মাটি ও ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সূত্রগুলো জানিয়েছে,সামাউল ইসলাম ইমন রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থবলকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। গত বছরের ৫ আগস্ট এক অভিযানের পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিলেও বর্তমানে আবার পুরো দমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন,”ইমনের কারখানার কারণে আমরা পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কৃষিতে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। অথচ আমাদের কোনো প্রতিকার নেই।” তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে, সামাউল ইসলাম ইমনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কথা হয় যশোর সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মোছাঃ রাজিয়া সুলতানার সাথে। তিনি ভেজাল ও ভেজাল মবিল সম্পর্কে বলেছেন, এসব বিষয়ে আমি একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখি। ঘটনা সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ভেজাল মোবিল ও পরিবেশ সম্পর্কে কথা হয় যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ইমদাদুল হকের সাথে। তিনি মুঠোফোনে বলেন পরিবেশ সংক্রান্ত কোনো বিষয় অভিযোগ পেলে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এসব বিষয়ে এলাকাবাসী যশোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “ভেজাল কারখানা বন্ধ করে ইমনকে আইনের আওতায় আনা না হলে গ্রামীণ পরিবেশ ও কৃষি আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd