প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৭:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৬, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
অস্বচ্ছল প্রতিবেশীদের বাড়িতে গরুর মাংশ পেঁৗছে দিলো ‘ফেন্ডস ক্লাব যশোর’

আহবান নিউজ২৪ :
যশোরের বাজারে গরুর মাংশের কেজি ৭৫০ থেকে ৮শ’ টাকা। এই দামে মাংশ কিনে খাওয়ার সামথর্য নেই শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হাসিনা বেগমের। সর্বশেষ গত কুরবানি ঈদে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দেওয়া কোরবানির পাওয়া মাংশই খেয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে ‘ফেন্ডস ক্লাব যশোর’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন থেকে বিনামূল্য গরুর মাংশ পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন এই নারী।
হাসিনা বেগম বলছিলেন, ‘স্বামী ও সন্তান নেই। একমাত্র প্রতিবন্ধী নাতনি নিয়েই কোন রকম বেঁচে আছি। ঠিক মতো খেতেই পারেনা; তা ঈদ করবো কি করে! গরীর মানুষ গত কুরবানিতে গরুর গোশ খেয়েছি আর খেতে পারেনি দামের কারণে। ঈদের দিন এই গোস্তটুকু পেয়ে খুব খুশি লাগছে। ঈদের দিন নাতনিরে রান্না করে দিবো এটা ভাবতেই খুব খুশি লাগছে। ফেন্ডস ক্লাব যশোর সারাবছর এভাবেই আমাদের মতো গরীবদের যাতে দিতে পারে সেই দোয়া করি।’
হাসিনার মতো শহরের শংকরপুর এলাকার ৬০ হতদরিদ্র পরিবার পেয়েছেন বিনামূল্য গরুর মাংশ। এলাকার সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ছাত্র-শিক্ষক, চাকুরিজীবিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বয়ে নিয়ে গঠিত ‘ফেন্ডস ক্লাব যশোর’ ঈদের আগে অস্বচ্ছল প্রতিবেশীদের জন্য ঈদ উপহার’ শিরোনামে গরুর মাংস বিতরণ করেছেন তারা। বিতরণ করার আগে সংগঠনের সদস্যরা বাজার থেকে গরু কিনে কার্যালয় চত্বরে জবাই করেন। এরপর মাংশ প্রস্তুত করে প্যাকেজজাত করে বাড়ি বাড়ি এসব পরিবারের কাছে পেঁৗচ্ছে দেন। প্যাকেজজাত করা এসব গরুর মাংশের প্যাকেট ভুক্তভোগীরা পাওয়ার আগেও জানতেন না তারা গরুর মাংশ পাবেন। হঠাৎ করেই রমজানের শেষ বিকালে দুয়ারে দুয়ারে এভাবে গরুর মাংশ পেয়ে অনেকেই যেমন খুশি হয়েছেন; তেমনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।
তেমনি একজন নারী রেহেনা পারভীন। তার স্বামী বেজপাড়া কবরস্থানের খাদেম। বাড়িতে হঠাৎ করে এভাবে মাংশ পেয়ে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। গত বছরও ঈদের আগে এই সংগঠনের লোকজন আমাদের মুরগীর মাংশ এবং ঈদ সামগ্রী দিয়েছিল। এ বছরও দিয়েছে। আমাদের সামথর্য নেই গরুর মাংশ কেনার। তাদের এই সহযোগিতা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’
ঈদ উপহার প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোরের সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু, সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বাবু, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু, কোষাধক্ষ্য রবিউল ইসলাম মিঠুন মোল্লা, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক হোসেন, সাকিব হাসান, ইমরান কবির প্রমুখ।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঈদের দিন আমরা অনেকেই গরুর মাংশ বা ভালো খাবার খাবো। কিন্তু আমাদের অনেক প্রতিবেশি আছে এসব খেতে পারবে না। তাই প্রতিবছর আমরা মাংশসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দিয়ে থাকি। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হিসাবে গরুর মাংশ দিয়েছি। এর কারণ অনেকেই দামের কারণে গরুর মাংশ খেতে পারে না। আমি আশা করবো সমাজের অন্যরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের পাশের দরিদ্র পরিবারগুলো ঈদ কিংবা অন্য উৎসব এলে ভালো খেতে ও থাকতে পারবে। আমাদের এই কাজে সংগঠনের সব সদস্য ও শুভাকাঙী লোকজন সহযোগিতা করেছে।’
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু। তিনি বলেন, ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছে। এসব দরিদ্র মানুষের জন্য সবসময় পাশে থাকবে ফ্রেন্ডস ক্লাব। একই সাথে তিনি সমাজে ধনী গরিব বৈষম্য দূরকরণে নিজ নিজ এলাকায় এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহন করার আহ্বান জানান।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫