প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ

আহ্বান নিউজ:
বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের ছয় জেলার ২৮ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ লাইনস ও রিজার্ভ রেঞ্জ ফোর্সে (আরআরএফ) সংযুক্ত করা হয়। ক্লোজড হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), কনস্টেবল ও বাবুর্চি রয়েছেন।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ৯ জন, বাগেরহাটে ৯ জন, যশোরে ২ জন, ঝিনাইদহে ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৪ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো.রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করা হচ্ছে। প্রায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বেতনের বাইরে অনৈতিক সুবিধা নিতেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইজিপির নির্দেশনায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি তারই অংশ। অধিকতর তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ক্লোজড হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার এসআই লিটন, কনস্টেবল রব, পাইকগাছা থানার এএসআই রবিউল ও এসআই কামরুজ্জামান, কয়রা থানার এএসআই জাহিদ, রূপসা থানার এসআই শহিদুল, তেরখাদা থানার বাবুর্চি সোহেল, ডুমুরিয়া থানার কনস্টেবল মহাসিন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কনস্টেবল রাসেল ও ইমরুল রয়েছেন।
বাগেরহাট জেলার সদর থানার আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোল্লাহাট থানার পুলক বিশ্বাস, চিতলমারী থানার মো. জাহিদুর রহমান, ফকিরহাট থানার এএসআই অমিত কুমার মণ্ডল, রামপাল থানার স্বরূপ হালদার, মোড়েলগঞ্জ থানার এএসআই মো. কিশোর কুমার, শরণখোলা থানার এএসআই তুষার কান্তি পাল, জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) মোহাম্মদ আহাদ আলী এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার আনিসুর রহমান রয়েছেন।
যশোর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই বাবর আলী ও চৌগাছা থানার এএসআই শান্তকে ক্লোজড করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই রোকনুজ্জামান, কনস্টেবল রবিউল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানার এএসআই সোহাগ হোসেন; কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার এসআই লিংকন সরকার, ভেড়ামারা থানার কনস্টেবল রাকিব হোসেন ও জাকির হোসেন এবং ট্রাফিক শাখার কনস্টেবল সৈয়দ মোল্লা; চুয়াডাঙ্গার ট্রাফিক শাখার কনস্টেবল আকরামকে ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের বাইরে খুলনার দাকোপ থানার ঝাড়ুদার রাসেল এবং বাগেরহাটের মোংলা থানার মোহাম্মদ আলম হোসেন নামের আরও দুজনকে অপসারণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ডিআইজির এ উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন।