প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
ট্রান্সকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ
কোমল পানীয় ‘সেভেন-আপ এক্সট্রা ফিজ’-এ নিম্নমানের উপাদান, অতিরিক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি এবং আইন অনুযায়ী মোড়কজাত না করার অভিযোগে ডিএসসিসির এক মামলায় ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ল্যাব পরীক্ষায় বিএসটিআইর নির্ধারিত ৬টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতেই ফেল করেছে জনপ্রিয় ওই পানীয়টি। এ ঘটনায় ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও প্রসিকিউটিং অফিসার মো কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ের ‘ব্রাদার্স কম্পিউটার্স অ্যান্ড কনফেকশনারী’ থেকে ৩ পিস (২০০ মিলি) ‘৭আপ এক্সট্রা ফিজ’ নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাব পরীক্ষায় বিএসটিআই (BDS১১২৩:২০২২) নির্দেশিত ৬টি প্যারামিটারের মধ্যে তিনটিতেই পণ্যটি উত্তীর্ণ হতে পারেনি।এ ছাড়া পণ্যে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে কৃত্রিম কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল সুইটনার প্রয়োগ করে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্যের লেবেলে ‘চিনি নেই, তবে নন-নিউট্রিটিভ সুইটনার আছে’ লেখা হলেও ফন্টের আকার অত্যন্ত ছোট করা হয়েছে, যা খালি চোখে সহজে দেখা যায় না বা পড়া যায় না। এটি ‘মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭’ এবং ‘পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা ২০২১’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আরও অভিযোগ, ল্যাব রিপোর্টে পানীয়টিকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ এবং ‘নিরাপদ নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এমন কেমিক্যালযুক্ত পানীয় নিয়মিত খেলে শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষের শরীর ক্ষয় হয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া ও প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই ?নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৬, ২৭, ৩২ (ক), ৪১ ও ৪২ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে আইনের ৫৮ ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আবেদনে বাদীর পক্ষ থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্সকমের ‘৭আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজ’-এর সংশ্লিষ্ট ব্যাচসহ (ব্যাচ নং-৮৭৪) এই জাতীয় সকল ক্ষতিকর পানীয় সারা দেশের বাজার ও দোকান থেকে দ্রুত বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারের (Recall) নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামি সিমিন রহমানকে আগামী ১৬ নভেম্বর সশরীরে উপস্থিত হওয়ার ওই আদেশটি দিয়েছেন।