
আহবান নিউজ :
যশোরের সাবেক সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ আব্দুল গনির বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০০০ সালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও তাঁর বাবা শেখ এমান আলী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাময়িক সনদ পান ২০০৪ সালে এবং সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।
সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শেখ আব্দুল গনি ১৯৯৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। পরে ২০০০ সালের ৪ এপ্রিল জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান।
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, তাঁর বাবা শেখ এমান আলী ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সাময়িক মুক্তিযোদ্ধা সনদ লাভ করেন। এ-সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২০০৫ সালের ২৭ জুন। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেখ আব্দুল গনির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিক তদন্তও হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
গত ২০ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটে তাঁকে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদেশে দ্রুত যোগদানের নির্দেশ থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে সেখানে যোগ দেননি। পরে জুনের শেষ দিকে যোগদান করে আদেশ বাতিলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
যশোরের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কাজে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে জড়ানোর পেছনেও শেখ আব্দুল গনির ভূমিকা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ আব্দুল গনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।” আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।