
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে বিএনপি নেতার হাতে জুতাপেটার শিকার নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবির মুখে আজ রোববার এ নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
এ দিকে আলিয়া খাতুন ও অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের অপসারণ দাবি করে রোববার কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন অন্য শিক্ষকরা।
আলিয়ার দাবি, কলেজের অর্থ আত্মসাতে জড়িত কিছু শিক্ষক হুমকি দিয়ে অন্যদের মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের পর আমার সঙ্গে এমন আচরণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
গত বৃহস্পতিবার মসজিদ উন্নয়নের জন্য অনুদান চাইতে কলেজে গিয়ে থাপ্পড়ের জেরে কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী শাহাদ আলী।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনকে লাঞ্ছনার ঘটনার পর তাদের অপসারণ দাবি করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী। অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। শনিবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নেতাকর্মীরা।
আলটিমেটামের সময় পেরোনোর আগেই আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মুহা. আছাদুজ্জামান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন।’
গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে ভয়ে কলেজে যাচ্ছেন না অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, ‘প্রিন্সিপাল আমাকে সকালে ফোন করে জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থতার কারণে কয়েক দিন কলেজে আসবেন না। কলেজের সিনিয়র হিসেবে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন তিনি। আর পুরো বিষয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানাবেন বলেছেন।’
এনামুল দাবি করেন, আলিয়া খাতুনের কথামতো সব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন অধ্যক্ষ। এতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো।
সুূত্র : সমকাল