
আহবান নিউজ :
যশোর শহরের ফাতেমা হাসপাতালের সামনে বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালত একজন আইনজীবীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন এবং উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ও আদালতের নিযুক্ত আইনজীবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শহরের পুরাতন কসবা ফাতেমা হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা বদরুল কালামের ছেলে মোস্তফা কামাল দিপু জানান, ওই এলাকার পুরাতন কসবা মৌজায় ফাতেমা হাসপাতালের সামনে ১৩ দশমিক ৭৩ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। জমিটি তাদের ভোগদখলে থাকলেও মালিকানা নিয়ে তাঁর ফুফু বেগম শামসুন্নাহারের সঙ্গে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, একই এলাকার বাসিন্দা জিকেএম কামরুজ্জামান ওই জমির মধ্যে ১০ শতক ক্রয় করে রেজিস্ট্রি করেন। এরপর তিনি পুরো জমিতেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
মোস্তফা কামাল দিপু জানান, গত বছরের ১৭ নভেম্বর কামরুজ্জামান প্রথমবার ওই জমিতে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেন। সে সময় আদালতের নির্দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়। পরে এক শুনানিতে অনিবার্য কারণে তিনি অনুপস্থিত থাকায় আদালত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৯ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর মধ্যেই গত ১৮ জানুয়ারি ফের নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেন দিপু। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরও রোববার সেখানে পাইলিং করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে জিকেএম কামরুজ্জামান বলেন,‘আমি আমার নিজের জমিতেই কাজ করেছি। দিপু এই জমির মালিক নন।’
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তাহমুদ বলেন,‘জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আদালতের নিযুক্ত আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সব বিষয় নোট করা হয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’