আহবান নিউজ :
উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, তেভাগা আন্দোলনের অগ্রণী নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রয়াত সভাপতি কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা,যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
নড়াইলের বাকড়ি অঞ্চলে অবস্থিত কমরেড অমল সেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার নেতা কমরেড খবির শিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া শিকদার ইলা, সুরাইয়া শিকদার এশা, আরিফা আক্তার, রায়হান রশিদ আবির, নয়ন আহমেদসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানকালে বক্তারা কমরেড অমল সেনের বিপ্লবী জীবন, তেভাগা আন্দোলনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে অবদান এবং আজীবন শ্রেণিসংগ্রামের প্রশ্নে তাঁর আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড অমল সেন ছিলেন এমন এক বিপ্লবী নেতা, যিনি মার্কসবাদকে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব শ্রেণিসংগ্রামের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করেছিলেন। তেভাগা আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি আধা-সামন্তবাদী শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক শ্রেণিকে সংগঠিত করেন এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রক্ষমতার শ্রেণিচরিত্র নিয়েও স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের যে সংকট, তা মূলত আদর্শিক বিচ্যুতি, সংসদবাদী মোহ ও সুবিধাবাদী রাজনীতির ফল। এই প্রেক্ষাপটে কমরেড অমল সেনের রাজনৈতিক লাইন, তেভাগা আন্দোলনের শিক্ষা এবং শ্রেণিসংগ্রামভিত্তিক গণসংগঠনের পথ নতুন করে আত্মস্থ ও বিকশিত করা সময়ের দাবি।
শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড অমল সেনকে স্মরণ করার প্রকৃত অর্থ কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন নয়; বরং মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে পুনর্গঠনের শপথ গ্রহণ করা।