• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
যশোর চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা  যশোরের ঝিকরগাছায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধ কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা আটক এক সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র চলছে:  যশোরে যুবদলের সমাবেশে নয়ন যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন যশোরে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সুস্থতা কামনা যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৫১ সদস্য যবিপ্রবিতে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত যবিপ্রবির বিএমবি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত ৯ বছর আগে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ গ্রেপ্তার

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে ইলিশ আমদানি জব্দ চালানে পুরোনো চক্র,প্রশ্নের মুখে কাস্টমসের ভেতরের ভূমিকা

Reporter Name / ১৯২ Time View
Update : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

  • আহবান নিউজ :
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ জব্দের ঘটনা কেবল একটি চালান আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দর ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে,এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণার বাইরে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা চালানো হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়,ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল,ফলিও ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী,চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশি আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয় সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজকে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান লিংক ইন্টারন্যাশনাল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি,এই তিন পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ধব চন্দ্র পাল তার পদের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু সি অ্যান্ড এফ এজেন্টকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। বিনিময়ে প্রতিটি চালানের বিপরীতে তিনি মোটা অংকের মাসোহারা ও ঘুষ গ্রহণ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী,প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ইলিশ জব্দের ঘটনাটি সেই অভিযোগেরই প্রমাণ। শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই অবৈধ আমদানির পেছনে কিছু কর্মকর্তার সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার আমদানিকারক ব্যবসায়ী মো.সুরত আলী বলেন, উদ্ধব চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, এমনকি সম্প্রতি গণমাধ্যমেও সেগুলো এসেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে মাঠপর্যায়ে বার্তা যায়, অভিযোগ করলেও কিছু হয় না। এই কারণেই মিথ্যা ঘোষণার মতো অনিয়ম বারবার ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ ওঠা মানেই ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। শুরুতেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে এত বড় চালান জব্দের ঘটনা হয়তো ঘটত না।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন,ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd