• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
যশোর চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা  যশোরের ঝিকরগাছায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধ কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা আটক এক সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র চলছে:  যশোরে যুবদলের সমাবেশে নয়ন যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন যশোরে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সুস্থতা কামনা যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৫১ সদস্য যবিপ্রবিতে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত যবিপ্রবির বিএমবি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত ৯ বছর আগে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

Reporter Name / ২৩৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

আহবান নিউজ :

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এতিমখানার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।  বুধবার (১৯ নভেম্বর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম সাতক্ষীরায় পৌঁছাবে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন রোকনুজ্জামান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের শাল্যে গ্রামে অবস্থিত আবু জাফর সিদ্দিকীয়া এতিমখানা (রেজি–২৮০/৯৯) ২০০৮ সালে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ২০১১ সালে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসেবে যোগদানের পর রোকনুজ্জামান শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী কবির হোসেন ও সহযোগীদের নিয়ে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট রেজিস্টারের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের আগের বরাদ্দের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে এসব নথি গায়েব করে দেন রোকনুজ্জামান। তবে ২০১৭–২০১৮ এবং ২০১৮–২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অস্তিত্বহীন এই এতিমখানার নামে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এছাড়া ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা গরু বাবদ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রদানের নামে রোকনুজ্জামান প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করতেন। অভিযোগ রয়েছে সেই টাকার একটি অংশ পাঠানো হতো তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের এপিএস ও রোকনুজ্জামানের মামা তৌহিদুজ্জামানের কাছে। ফলে রোকনুজ্জামানের অপকর্ম চাপা পড়ে যেত।

অভিযোগ আরও রয়েছে, বিপুল অঙ্কের অবৈধ টাকা দিয়ে রোকনুজ্জামান সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে ৮ কাঠা জায়গায় সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ওই ভবনের মালিকানা দুই ভাইয়ের নামে দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি একই স্থানে প্রায় এক কোটি টাকায় আরও পাঁচ শতক জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বছর সময়ে রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডে তার নামে বহু সম্পত্তি কেনার তথ্য মিলেছে।

সরকারি চাকরিতে একই জেলায় তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম থাকলেও রোকনুজ্জামান প্রায় ১৮ বছর ধরে সাতক্ষীরাতেই বহাল আছেন। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি এড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আবার তার অনুগত এক কর্মকর্তাকে আশাশুনি থেকে বদলি করে জেলার উপপরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে আগের অপরাধের তদন্তে চাপ কমে।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করতে রোকনুজ্জামানের মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান মৃধা জানান, “অভিযোগ অনুযায়ী যথা নিয়মে তদন্ত সম্পন্ন হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসংখ্য অভিযোগের পর এবার তদন্তের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd