আহবান নিউজ :
যশোর সদর উপজেলার ফরিদপুর এলাকায় জমি বিক্রির কথা বলে টাকা নেওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি না করে পুনরায় দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিল্পী খাতুন নামে এক নারী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা হলেন, ওই এলাকার শাহীন হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন, সুমনের স্ত্রী মাসুরা বেগম, শাহীন হোসেনের মেয়ে তানিয়া, বারেক মোল্যার ছেলে আব্দুর রউফ, কিরামতের ছেলে বিল্লাল ও ইবাদ আলী গাজীর ছেলে মন্টু।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মাসে ফরিদপুর মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৫১২ ও দাগ নম্বর ১৯১-এর ২.৬০ শতক জমি শিল্পী খাতুনের কাছে ৬ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রির কথা বলেন প্রথম অভিযুক্ত মনোয়ারা খাতুন। এ বিষয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নানামা সম্পাদন করা হয়। সেখানে মনোয়ারা খাতুনের স্বামী শাহীন হোসেন বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর জমিটি শিল্পী খাতুনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
শিল্পী খাতুনের দাবি, বায়নানামায় উল্লেখিত ৬ লাখ টাকা তিনি যথাসময়ে পরিশোধ করেন। তবে শাহীন হোসেন দেশে ফেরার পরও জমিটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। বরং বর্তমানে ওই জমি পুনরায় জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং মারধরের জন্য উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত অস্ত্রশস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্পী খাতুন আরও অভিযোগ করেন, তিনি ওই জমিতে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, রোপণ ও শাকসবজির আবাদ করে ভোগদখলে ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে অভিযুক্তরা জমিতে থাকা গাছপালা ও শাকসবজি কেটে নষ্ট করে দেন। ভবিষ্যতে সেখানে গাছপালা বা শাকসবজি আবাদ না করার জন্যও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তার দাবি। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছেন শিল্পী খাতুন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি জমি বিক্রির জন্য কোন বায়না নি নাই। অনেক বছর আগে সুদে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলাম। এখন আমার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছে দাবি করে স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে টাকার দাবি করছে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মিজান খান বলেন, অভিযোগ এখনো আমি হাতে পাইনি। পাওয়ার পর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।